পার্লামেন্ট চলবে কুরআন দিয়ে” – আবরারুল হক আসিফ-এর সাহসী বার্তা ও ইসলামী রাষ্ট্রভাবনা
সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি একটি বিশেষ বক্তব্য সম্বলিত ছবি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নামের এই ছবিতে বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা আবরারুল হক আসিফ হাফিঃ-এর একটি অত্যন্ত জোরালো ও সাহসী উক্তি তুলে ধরা হয়েছে।
“পার্লামেন্ট চলবে কুরআন দিয়ে, যে বাধা দিবেতাকে তার পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে।“
অনলাইন ডেস্ক | ঢাকা
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি একটি বিশেষ বক্তব্য সম্বলিত ছবি প্রকাশ পাওয়ার পর তা নিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। “1782920038026.jpg” নামের ওই ছবিতে তরুণ ও আলোচিত ইসলামী বক্তা আবরারুল হক আসিফ হাফিঃ-এর একটি কড়া এবং আপসহীন রাজনৈতিক ও আদর্শিক বার্তা দেখা গেছে।
ছবিতে তার উদ্ধৃতি দিয়ে লেখা হয়েছে:
”পার্লামেন্ট চলবে কুরআন দিয়ে, যে বাধা দিবে তাকে তার পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে।”
এই বক্তব্যটি সামনে আসার পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও ইসলামী ধারার মানুষেরা এই বক্তব্যকে স্বাগত জানাচ্ছেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের মধ্যে এটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বক্তব্যের মূল প্রেক্ষাপট ও অর্থ
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, আবরারুল হক আসিফের এই বক্তব্যটি মূলত ইসলামের ‘পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান’ বা ‘কমপ্লিট কোড অফ লাইফ’ ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ইসলাম শুধু মসজিদ বা ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাষ্ট্র, বিচারব্যবস্থা ও আইন প্রণয়নেও ইসলামের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।
১. ঐশী আইনের সার্বভৌমত্ব:
বক্তব্যের প্রথম অংশে বলা হয়েছে “পার্লামেন্ট চলবে কুরআন দিয়ে”। এর অর্থ হলো, একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের আইনসভা বা পার্লামেন্টে মানুষের তৈরি কোনো আইন আল্লাহর দেওয়া চিরন্তন আইনের ওপর প্রাধান্য পেতে পারে না। ইসলামের অনুসারীদের দাবি, মানুষের তৈরি আইন পরিবর্তনশীল এবং অনেক সময় তা পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে, কিন্তু পবিত্র কুরআনের আইন চিরন্তন ও সর্বজনীন।
২. কঠোর প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি:
বক্তব্যের দ্বিতীয় অংশ—”যে বাধা দিবে তাকে তার পাওনা বুঝিয়ে দিতে হবে”—সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এটি মূলত একটি রূপক ও আদর্শিক হুঁশিয়ারি। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, যারা আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার পথে অন্যায়ভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে মুসলিম সমাজকে সচেতন, ঐক্যবদ্ধ এবং আইনি ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
”1782920038026.jpg” ছবিটি ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার) এবং বিভিন্ন ইসলামিক গ্রুপে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
সমর্থকদের দাবি: সাধারণ সমর্থকদের মতে, বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, দুর্নীতি এবং বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা থেকে মুক্তি পেতে কুরআনের শাসনের কোনো বিকল্প নেই। আবরারুল হক আসিফ তরুণ সমাজের মনের কথাই সাহসের সাথে তুলে ধরেছেন।
সমালোচকদের বক্তব্য: অন্যদিকে, কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, একটি গণতান্ত্রিক ও বহুত্ববাদী রাষ্ট্রে এ ধরনের বক্তব্য কিছুটা উগ্র ভাবাবেগ তৈরি করতে পারে। আইন ও প্রশাসনকে নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা যেন তৈরি না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
রাষ্ট্র পরিচালনায় কুরআনের শাসন ও বর্তমান বাস্তবতা
ঐতিহাসিকভাবেই দেখা গেছে, উপমহাদেশে ওয়াজ-মাহফিল এবং ধর্মীয় সভাগুলো থেকে প্রায়শই রাষ্ট্র ও সমাজ সংস্কারের ডাক দেওয়া হয়। আবরারুল হক আসিফের এই বক্তব্যটিও সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ।
ইসলামী স্কলারদের মতে, রাষ্ট্রে কুরআনের আইন বাস্তবায়নের জন্য হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী সচেতনতা এবং জনগণের মানসিকতা তৈরি করা প্রয়োজন। জোর জবরদস্তি নয়, বরং ইসলামের সুউচ্চ নৈতিকতা ও ন্যায়বিচার দেখে যেন মানুষ নিজেই এই ব্যবস্থার প্রতি আকর্ষিত হয়, সেটাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।
প্রতিবেদকের শেষ কথা:
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ছবি ও বক্তব্যটি স্পষ্ট করে দেয় যে, বর্তমান তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিফলন দেখতে চায়। তবে এই আদর্শিক লড়াই কতটুকু শান্তিপূর্ণ এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে পরিচালিত হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


