স্নেহ, আনন্দ ও আধুনিক পাঠদানে চমক: প্রাথমিকে শিশুদের মন জয় করছেন শিক্ষিকা
শ্রেণিকক্ষে ছন্দের ছোঁয়া, জাতীয় দিবসে সক্রিয় উপস্থিতি এবং মাতৃসুলভ মমতায় শিশুদের বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ বাড়িয়ে দিচ্ছেন এই গুণী শিক্ষিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রাথমিক শিক্ষাই একটি শিশুর জীবন গঠনের মূল ভিত্তি। এই সময়ে শিক্ষকের আচরণ, মানসিকতা ও পাঠদান পদ্ধতি শিশুর ভবিষ্যৎ মনস্তত্ত্ব গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। প্রচলিত প্রথাগত ও ভীতিময় শিক্ষার পরিবেশ বদলে যখন একজন শিক্ষক শিশুদের বন্ধু হয়ে ওঠেন, তখন বিদ্যালয়ের আঙিনা হয়ে ওঠে আনন্দের ঠিকানা। সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষার অঙ্গনে এমনই এক ইতিবাচক পরিবর্তনের রূপকার হিসেবে নজর কেড়েছেন এক সহকারী শিক্ষিকা। তাঁর ব্যতিক্রমী শিক্ষাদান কৌশল, হাসোজ্জ্বল উপস্থিতি এবং কোমলমতি শিশুদের প্রতি নিবিড় মমতা শিক্ষা পরিমণ্ডলে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শ্রেণিকক্ষে আনন্দের উৎসব ও ছন্দে ছন্দে বর্ণমালা শেখানো
বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ঢুকেই তিনি শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দেন এক অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য। ব্ল্যাকবোর্ডে ‘অ, আ, ই, ঈ’ কিংবা ‘১, ২, ৩’ লিখে পড়ানোর পাশাপাশি তিনি ব্যবহার করেন ছন্দ, অঙ্গভঙ্গি ও নানাবিধ আনন্দদায়ক মাধ্যম। এতে করে শিশুরা পড়ালেখাকে কোনো বিরক্তিকর কাজ বা বোঝা মনে না করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। ছবি ও ছন্দের মাধ্যমে পাঠদানের ফলে শিশুরা খুব সহজেই পড়া আয়ত্ত করতে পারছে। শিশুদের কাছে তিনি এখন কেবল একজন শিক্ষক নন, বরং খেলাধুলো ও গল্পচ্ছলে শেখানোর একজন প্রধান সঙ্গী।
জাতীয় চেতনা ও মূল্যবোধ বিকাশে সক্রিয় ভূমিকা
শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের বাইরে বিদ্যালয়ের প্রতিটি জাতীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজনেও রয়েছে তাঁর সক্রিয় ও বলিষ্ঠ অংশগ্রহণ। সম্প্রতি পিঁচাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত “জুলাই শহীদ দিবস-২০২৫” সংক্রান্ত আলোচনা সভা ও স্মরণ অনুষ্ঠানে তাঁকে অন্য সহকর্মীদের সাথে নিয়ে গভীর শ্রদ্ধা ও গুরুত্বের সাথে অংশ নিতে দেখা যায়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে জাতীয় চেতনা, ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং নীতি-নৈতিকতার শিক্ষাকে ছড়িয়ে দিতে তিনি নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর এই সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সচেতনতা শিশুদের দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করছে।
শিশুদের ব্যক্তিত্ব বিকাশ ও পরম মমতার স্পর্শ
ছোট ছোট শিশুদের মনস্তত্ত্ব বোঝা অত্যন্ত কঠিন এক কাজ। কিন্তু এই শিক্ষিকা প্রতিটি শিশুর মানসিক চাহিদা ও সুপ্ত প্রতিভার প্রতি আলাদা মনোযোগ দিয়ে থাকেন। নতুন ভর্তি হওয়া শিশু কিংবা পড়ালেখায় পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ভয় দূর করতে তিনি পরম মমতায় তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। পোশাক-পরিচ্ছদ ঠিক করা থেকে শুরু করে তাদের হাতে-কলমে ধরে শেখানো—তাঁর এই মাতৃসুলভ আচরণে মুগ্ধ এলাকার অভিভাবকরাও। অভিভাবক ও স্থানীয়দের মতে, এমন শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসার কারণেই অনেক শিশু এখন প্রতিদিন সানন্দে স্কুলে আসছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত ও তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা
সবুজ রঙের ইউনিফর্ম পরা এসব খুদে শিক্ষার্থীদের জীবনের প্রথম ধাপে একজন ভালোবাসাময় ও প্রগতিশীল শিক্ষক পাওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক স্তরে যদি আনন্দঘন পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, তবে ঝরে পড়ার হার শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব। এই শিক্ষিকার একাগ্রতা, পেশাগত দায়িত্বশীলতা এবং সৃজনশীল চিন্তা দেশের অন্যান্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্যও এক চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়ন, ঝরে পড়া রোধ এবং আগামী দিনের আদর্শ ও সুনাগরিক গড়ে তুলতে এমন নিবেদিতপ্রাণ ও আধুনিক মনস্ক শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, একটু ভালোবাসা, একটু হাসি আর সঠিক দিকনির্দেশনাই পারে একটা শিশুর সম্পূর্ণ জগতকে বদলে দিতে।



