বর্ষবরণে এবারও ‘মঙ্গল’ বাদ দিয়ে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’, চারুকলায় পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু
পহেলা বৈশাখ উদযাপনকে কেন্দ্র করে চারুকলা অনুষদে কর্মমুখর পরিবেশ; শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের তুলির আঁচড়ে সেজে উঠছে শোভাযাত্রার নানা অনুষঙ্গ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে চারুকলা প্রাঙ্গণে শুরু হয়েছে বর্ণিল প্রস্তুতি। বর্ষবরণের প্রধান অনুষঙ্গ শোভাযাত্রাকে সামনে রেখে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আনন্দমুখর পরিবেশ গড়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। তবে বিগত বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এবারও ‘মঙ্গল’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ শিরোনামেই ঐতিহ্যবাহী এই শোভাযাত্রা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চারুকলায় শিল্পীদের কর্মযজ্ঞ ও ক্যানভাস উদ্বোধক
বর্ষবরণের প্রস্তুতি উপলক্ষে চারুকলা অনুষদে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে বরেণ্য শিল্পী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। ক্যানভাস ও তুলির আঁচড়ে শোভাযাত্রার প্রাথমিক কাজের শুভ উদ্বোধন করেন দেশের প্রখ্যাত শিল্পী ও সংস্কৃতিজনেরা। আয়োজনে উপস্থিত অতিথি ও শিল্পীদের সামনে নতুন বছরের বার্তা বহনকারী শিল্পকর্ম আঁকা হয়। পাশাপাশি তৈরি করা হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী লোকজ শিল্পের বিভিন্ন বড় আকৃতির শিল্পরূপ, মুখোশ, মোটিফ ও চিত্রকর্ম।
ঐতিহ্য রক্ষা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশ
বাংলা নববর্ষ কেবল কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি সমগ্র বাঙালি জাতির ঐক্যের ও ঐতিহ্যের প্রতীক। বর্ষবরণকে সার্বজনীন ও আনন্দময় করে তুলতেই এই ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র আয়োজন। চারুকলার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, শোভাযাত্রার মূল উদ্দেশ্যই হলো নতুন বছরকে আনন্দ ও শুভকামনার মধ্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এক সুতোয় গাঁথা। ঐতিহ্যবাহী লোকজ উপাদান ও শিল্পকর্ম প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ
বর্ষবরণের আয়োজনে চারুকলার বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্দীপনা চোখ পড়ার মতো। রঙ-তুলির কাজ, কাঠ ও বাঁশের কাঠামো তৈরি, মুখোশ চিত্রায়ণ এবং পোস্টার বানানোর কাজে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। প্রতিদিন অসংখ্য শিল্পানুরাগী ও দর্শনার্থী চারুকলায় এসে এই প্রস্তুতি পর্ব উপভোগ করছেন এবং শিল্পীদের উৎসাহিত করছেন।
নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের সার্বিক ব্যবস্থা
পহেলা বৈশাখের এই আনন্দ শোভাযাত্রা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎসবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যেন না ঘটে, সে বিষয়েও সজাগ রয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সব মিলিয়ে বৈশাখকে নতুন রূপ ও আনন্দে বরণ করে নিতে প্রস্তুত চারুকলা। শোভাযাত্রার মাধ্যমে নতুন বছরে দেশ ও জাতির সার্বিক সমৃদ্ধি, শান্তি ও ঐক্যের নতুন বার্তা ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করছেন আয়োজক ও সংস্কৃতিজনেরা।



