মশা নিধন শিখতে ফ্লোরিডা যাওয়ার দরকার নেই”— তারেক রহমানের মন্তব্য ও স্থানীয় সমাধানের বার্তা
জনমুখী প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি
বাংলাদেশে ডেঙ্গু বা মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ এবং মশা নিধন একটি দীর্ঘদিনের বড় চ্যালেঞ্জ। বছরের পর বছর ধরে এই সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন সময় সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর বা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের মতো চটকদার উদ্যোগের কথা শোনা গেছে, যা প্রায়শই রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হিসেবে সমালোচিত হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া
বিষয়ে দেশের বর্তমান সরকারের একটি অত্যন্ত বাস্তবমুখী ও রাজনৈতিক বার্তা উঠে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি উক্তি এই মুহূর্তে নাগরিক মহলে বেশ ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেছেন:
“মশা নিধন শিখতে ফ্লোরিডা যাওয়ার দরকার নেই, ডোবার পাশে বসলেই উপায় বের হবে।”
এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য ও রাজনৈতিক দর্শন:
তারেক রহমানের এই সরল অথচ গভীর মন্তব্যটি মূলত প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রীয় অপচয়ের বিরুদ্ধে একটি বড় বার্তা। এর পেছনে থাকা মূল দিকগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
- বাস্তবমুখী ও স্থানীয় সমাধান (Local Solution): মশা বা ডেঙ্গু সমস্যার সমাধান কোনো উন্নত দেশের ল্যাবরেটরিতে বা ফ্লোরিডার মতো শহরের আধুনিক ব্যবস্থাপনায় খোঁজার চেয়ে আমাদের দেশের বাস্তবতায় খোঁজা বেশি জরুরি। সমস্যা যেখানে (যেমন নোংরা ডোবা, নালা বা ড্রেন), ঠিক সেখানে দাঁড়িয়ে কাজ করলেই প্রকৃত ও কার্যকর সমাধান সম্ভব।
- বিলাসী বিদেশ সফর ও অপচয় রোধ: অতীতে সামান্য সব বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের নামে সরকারি কর্মকর্তাদের ‘শিক্ষা সফর’ বা বিদেশ ভ্রমণের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, এই উক্তিটি তার সরাসরি বিরোধিতা করে। রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় না করে সেই বাজেট মাঠপর্যায়ের কাজে লাগানোর দিকেই এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
- জনবান্ধব ও মাঠপর্যায়ের রাজনীতি: এসি রুমে বসে বা বিদেশি মডেল মুখস্থ না করে, নীতিনির্ধারক ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সরাসরি সংকটের মূলে গিয়ে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের জায়গায় দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই নীতি একটি জনমুখী প্রশাসনের লক্ষণ।
আমাদের ভাবনা
মশার উপদ্রব কিংবা ডেঙ্গুর মতো জনস্বাস্থ্য সংকট থেকে মুক্তি পেতে আমাদের বিশাল কোনো বিদেশি ফর্মুলার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন কেবল স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা, সঠিক সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ এবং জনগণের সচেতনতা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উক্তি যদি সত্যিই মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের শাসনব্যবস্থা ও নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।


